
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শাহ আলম লস্কর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১২ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এ পরিকল্পনাগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন তিনি।
‘একসাথে গড়ি সুন্দর ইউনিয়ন, উন্নয়ন ও সুযোগ—সবার জন্য সমান’ স্লোগানে প্রচারিত এসব বিলবোর্ডে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
মো. শাহ আলম লস্কর মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সহসভাপতি এবং ৪১ নম্বর রাজুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক দুইবারের সভাপতি।
১২ দফা পরিকল্পনায় উন্নয়ন ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার
শাহ আলম লস্করের ঘোষিত পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সামাজিক ন্যায়বিচার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর ঘোষিত ১২ দফা পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—
১. সম্মানী ও সরকারি বেতন জনকল্যাণে ব্যয়: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা ও সরকারি বেতন জনসাধারণের কল্যাণ এবং ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
২. সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ: প্রত্যেক ওয়ার্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
৩. ধর্মীয় ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মসজিদ, মাদরাসা এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
৪. সামাজিক ও ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা: প্রত্যেক ওয়ার্ডে সামাজিক ও ইসলামি মূল্যবোধ জোরদার এবং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
৫. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার: গণমুখী ও জনকল্যাণমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
৬. ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
৭. নারীর মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা: নারীর মর্যাদা সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
৮. কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ: কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
৯. রাজনৈতিক হয়রানি প্রতিরোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হয়রানি, মামলা ও হামলা বন্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
১০. পরিবেশবান্ধব আবাসন: যুগোপযোগী, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
১১. সরকারি সুযোগ-সুবিধায় ন্যায্যতা: সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে সর্বোচ্চ ন্যায্যতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
১২. শিশুদের শিক্ষা, মেধা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা, মেধার বিকাশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি।
জনকল্যাণমূলক ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যাশা
শাহ আলম লস্করের ঘোষিত পরিকল্পনায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রসার, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা এবং সরকারি সেবায় ন্যায্যতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর প্রত্যাশা, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গজরা ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, নিরাপদ, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের আইনগত ক্ষমতা, সরকারি বরাদ্দ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।




