
রিয়াল মাদ্রিদে একের পর এক গোল করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ভেঙেচূড়ে দিয়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। জিতেছেন অনেক শিরোপাও। কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠও দেখতে হয়েছে তাঁকে। গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের দুয়োধ্বনি তো রয়েছেই। এমনকি রেফারিদের হাত থেকেও নিস্তার পাচ্ছেন না তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে রোমার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় ছাপিয়ে ভিনির ঘটনা বেশি আলোড়ন তুলেছে। বিশেষ করে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগায় তাঁর লাল কার্ডের ঘটনার জেরে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হচ্ছে বেশি। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দুয়োধ্বনি নিয়ে ভিনির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু রেফারিদের ওপর তিনি বেজায় চটেছেন। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা আমাকে দুয়ো দেবে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমি তাদের দলের বিপক্ষে গোল করতে নামি। কিন্তু রেফারিদের আচরণ আমি বুঝতে পারি না।’
রোমার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমন এক পরিসংখ্যানের কথা ভিনি উল্লেখ করেছেন, যা চোখ কপালে ওঠার মতোই। ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি একটি পরিসংখ্যানে দেখেছি যে আমাকে ৫০০ বার ফাউল করা হয়েছে। বিপরীতে মাত্র পাঁচ লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া কতগুলো হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। অথচ হলুদ কার্ড সব সময় আমাকেই দেখানো হয়। আমি এটা বুঝতে পারি না।’
অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে গত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভিনি জানতে পারেন তাঁর চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার ঘটনা। কোচ জোসে মরিনিও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। ভিনি নিজেও এই ঘটনায় হতভম্ব, ‘আমার মতে, শাস্তি দেওয়ার সময়টা ঠিক ছিল না। তারা চাইলে সারাদিনের যেকোনো সময় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করতে পারত। কিন্তু যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছাই, তখনই এ বিষয়ে জানতে পারি। নিয়মটি নতুন। আর লা লিগার কর্মকর্তারা সাধারণত নতুন সংশোধনীগুলোর ব্যাপারে আমাদের জানাতে আসেন। কিন্তু এই নির্দিষ্ট নিয়মটি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই আমাদের জানাননি।’
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন ভিনি। গতকাল রাতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাথান সালিবার চুল টানার কারণে অসদাচরণের জন্য তিনি পেয়েছেন দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় আরও দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। গত রাতে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি কখনোই কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করিনি। আমাকে অনেক ফাউল করা হয়। অথচ মনে হয়, রেফারিরা খুব সহজেই আমাকে কার্ড দেখান।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে প্রথম ৫৮ মিনিটে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় রোমা। রোমার দোনিল মালেন করেন জোড়া গোল। অপর গোল করেন মার্তেন দে রুন। রিয়ালের গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ ৭ মিনিটে সবকিছু বদলে যায়। ৮৩ মিনিটে গোল করেন কার্লোস এসপি। সমতাসূচক গোল ৮৫ মিনিটে করেন এনদ্রিক। ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আন্তোনিও রুদিগার।




