চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১২ নম্বর ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মোস্তফা মোহসীন (দিপু)। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দফা অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি।
সম্প্রতি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মোস্তফা মোহসীন দিপু। এ লক্ষ্যে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডের জরাজীর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সংস্কার, প্রয়োজনীয় কাঁচা রাস্তা পাকা করা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, নারীশিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করার কথা জানান। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্য ও জনসেবা খাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসহায়তা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
কৃষি, মৎস্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে সহযোগিতা, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অঙ্গীকার করেন।
সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সহায়তা প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করবেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ, খাল-পুকুর ও জলাশয় রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ, নিয়মিত ওয়ার্ড সভা এবং হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিজের বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির কথা জানিয়েছেন। প্রথম এক বছরে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, জরুরি রাস্তা সংস্কার এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। আর পাঁচ বছরের মধ্যে পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মোস্তফা মোহসীন (দিপু) বলেন, “আমি এমন একটি ১২ নম্বর ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণ প্রজন্ম মাদকের অন্ধকার থেকে মুক্ত থাকবে, প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে, মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ সম্মান ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা পাবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি যা বলবেন, তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন।
মোস্তফা মোহসীন (দিপু) ১২ নম্বর ফরাজিকান্দি ইউনিয়নবাসীর কাছে দোয়া, মূল্যবান মতামত ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।