মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এ সময়ে ৩৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মিটার অবৈধ জাল, ২২৮ কেজি ইলিশ মাছ এবং মাছ ধরার ১০টি নৌকা।
এ ছাড়া অভিযান চলাকালে ২৫টি মামলা দায়ের, ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময় মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং ইলিশ মাছ পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল, ইলিশ মাছ ও মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অপরাধে জেলেদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে অভিযান অব্যাহত ছিল। নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও ইলিশ পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল, ইলিশ মাছ ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ ভবিষ্যতেও তৎপর থাকবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।